আমিনুল ইসলাম, মেহরাব হোসেন, তামিম ইকবাল—
বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে তিনটি নাম মিলেছে এক বিন্দুতে। বিন্দুটি কী, ধরতে পেরেছেন নিশ্চয়ই। আমিনুল উজ্জ্বল হয়ে আছেন বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে তিন অঙ্ক ছুঁয়ে। ওয়ানডেতে প্রথম সেঞ্চুরি করে রেকর্ডের আরেকটি অধ্যায়ে জ্বল জ্বল করছে মেহরাবের নাম। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে প্রথম সেঞ্চুরি করে তামিম এমন অনন্য কীর্তির সর্বশেষ অংশীদার।আন্তর্জাতিক আঙিনায় বাংলাদেশের হয়ে সেঞ্চুরির ‘প্রথমে’ আমিনুল, মেহরাব, তামিমের সঙ্গে উচ্চারিত হবে আরেকটি নাম—ইউসুফ রহমান।, ইউসুফ বাবু নামেই যিনি অধিক পরিচিত, দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন ৯ জুলাই ১৯৮২, আইসিসি ট্রফির তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে পাপুয়া নিউগিনির বিপক্ষে সেঞ্চুরিটির জন্য। ওয়ানডে মর্যাদা না পেলেও ম্যাচটি এক অর্থে তো ‘আন্তর্জাতিক’। বাংলাদেশ দলের প্রতিনিধিত্ব করে সেটাই ছিল কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে প্রথম সেঞ্চুরি।
বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে তিনটি নাম মিলেছে এক বিন্দুতে। বিন্দুটি কী, ধরতে পেরেছেন নিশ্চয়ই। আমিনুল উজ্জ্বল হয়ে আছেন বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে তিন অঙ্ক ছুঁয়ে। ওয়ানডেতে প্রথম সেঞ্চুরি করে রেকর্ডের আরেকটি অধ্যায়ে জ্বল জ্বল করছে মেহরাবের নাম। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে প্রথম সেঞ্চুরি করে তামিম এমন অনন্য কীর্তির সর্বশেষ অংশীদার।আন্তর্জাতিক আঙিনায় বাংলাদেশের হয়ে সেঞ্চুরির ‘প্রথমে’ আমিনুল, মেহরাব, তামিমের সঙ্গে উচ্চারিত হবে আরেকটি নাম—ইউসুফ রহমান।, ইউসুফ বাবু নামেই যিনি অধিক পরিচিত, দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন ৯ জুলাই ১৯৮২, আইসিসি ট্রফির তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে পাপুয়া নিউগিনির বিপক্ষে সেঞ্চুরিটির জন্য। ওয়ানডে মর্যাদা না পেলেও ম্যাচটি এক অর্থে তো ‘আন্তর্জাতিক’। বাংলাদেশ দলের প্রতিনিধিত্ব করে সেটাই ছিল কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে প্রথম সেঞ্চুরি।
৯০ দশকের শেষ দিকে ইউসুফ পাড়ি জমিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে। এখন থাকেন
নিউইয়র্কে। কাল রাতে মুঠোফোনে কথা হলো তাঁর সঙ্গে। সেঞ্চুরির কথা মনে
করিয়ে দিতেই রোমাঞ্চিত হলেন। আক্রান্ত হলেন স্মৃতিকাতরতায়। সহস্র মাইল দূর
থেকে ভেসে আসা কণ্ঠে সেটি আঁচ করা গেল অনায়াসেই।
বোর্নভিলে সেদিন বাংলাদেশের দুর্দান্ত সূচনা এনে দিয়েছিল ইউসুফ-নাজিম সিরাজির ওপেনিং জুটি। ৬০ ওভারের ম্যাচে উদ্বোধনী জুটি তুলেছিল ১৭০ রান। এর মধ্যে ইউসুফের রানই ১১৫। চোখে তাঁর মূর্ত হয়ে ওঠল ৩৪ বছর আগের স্মৃতি, ‘আমরা ওপেনিং জুটিতে ৩৬ ওভারে করে ফেলি ১৭০ রান। বাউন্ডারিই মেরেছিলাম ১৪ কিংবা ১৫টি। লাঞ্চের খানিক আগে ড্রাইভ করতে গিয়ে কাভারে ক্যাচ তুলে দিয়ে আউট।’
দারুণ শুরুর পরও বাংলাদেশ অলআউট ২২৪ রানে। বিনা উইকেটে ১৭০ থেকে আর ৫৪ রান যোগ করতেই পড়ে যায় সবকটি উইকেট! ৫৭ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যটা পেরিয়ে যায় পাপুয়া নিউগিনি। ইউসুফের সেঞ্চুরির আনন্দে বিষাদ ঢেলে দেয়ে দলের অমন পরাজয়, ‘জানেন, লাঞ্চের সময় পাপুয়া নিউগিনির ম্যানেজমেন্ট মাঠ ছেড়ে চলে গিয়েছিল। তারা ভেবেছিল, যেভাবে শুরু করেছি আমরা অন্তত ৩৫০ রান করব। উইকেটও ছিল ভীষণ ব্যাটিংবান্ধব। সেখান থেকে ২২৪ রানে অলআউট হলাম। বোকার মতো চারটি রানআউটের বড় মূল্য দিতে হলো।’ দল হারলেও সেঞ্চুরি করে হয়েছিলেন ম্যান অব দ্য ম্যাচ। তবে তাতেও তৃপ্তি আসেনি, দলের পরাজয়টা আজও দাগ কাটে ইউসুফের হৃদয়ে। আছে একটি আফসোসও। আইসিসি ট্রফিতে বাংলাদেশের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান, কিন্তু আমিনুল-মেহরাবের প্রথম সেঞ্চুরির মতো এটি হয়তো অনেককে জানেনই না। কিন্তু একদিন কেউ একটা ভিত গড়ে দিয়েছিল বলেই, কেউ একটা ইট গেঁথেছিল বলেই তো একটা দালান হয়ে উঠতে পেরেছে বাংলাদেশের ক্রিকেট। শুধু ওই সেঞ্চুরি নয়, ইউসুফকে মনে রাখতে হবে ১৯৭৭ সালে এমসিসির বিপক্ষে ৭৮ রানের ইনিংসটির জন্যও। বাংলাদেশ জাতীয় দলের প্রথম ম্যাচ ছিল সেটি। যে সময়ে ব্যাটিংয়ে ঝড় তোলাটা ছিল রীতিবিরুদ্ধ, দেখেশুনে খেলাটা ছিল বরং প্রচলিত নিয়ম। রীতি ভেঙে ইউসুফ নিজেকে চিনিয়েছিলেন আগ্রাসী ব্যাটসম্যান হিসেবে। ক্রিকেটের পাশাপাশি তিনি বাস্কেটবলও খেলতে পারতে দারুণ। খেলোয়াড়ি জীবন শেষে লিখেছিলেন ‘সেন্টিমেন্টাল জার্নি’ নামে একটি বই। প্রবাসজীবনে তাঁর ব্যস্ততা এখন ব্যবসা নিয়ে। সেখানেও তিনি ভীষণ সফল। প্রায় প্রতিবছর একবার অন্তত আসেন দেশে।
ক্রিকেটার, বাস্কেটবল খেলোয়াড়, সফল ব্যবসায়ী, লেখক—সব ছাপিয়ে ইউসুফ বাবুর নামটি মনে রাখতে হবে ওই সেঞ্চুরিটির জন্যই। বাংলাদেশের প্রথম সেঞ্চুরি যে ছিল সেটাই!
বোর্নভিলে সেদিন বাংলাদেশের দুর্দান্ত সূচনা এনে দিয়েছিল ইউসুফ-নাজিম সিরাজির ওপেনিং জুটি। ৬০ ওভারের ম্যাচে উদ্বোধনী জুটি তুলেছিল ১৭০ রান। এর মধ্যে ইউসুফের রানই ১১৫। চোখে তাঁর মূর্ত হয়ে ওঠল ৩৪ বছর আগের স্মৃতি, ‘আমরা ওপেনিং জুটিতে ৩৬ ওভারে করে ফেলি ১৭০ রান। বাউন্ডারিই মেরেছিলাম ১৪ কিংবা ১৫টি। লাঞ্চের খানিক আগে ড্রাইভ করতে গিয়ে কাভারে ক্যাচ তুলে দিয়ে আউট।’
দারুণ শুরুর পরও বাংলাদেশ অলআউট ২২৪ রানে। বিনা উইকেটে ১৭০ থেকে আর ৫৪ রান যোগ করতেই পড়ে যায় সবকটি উইকেট! ৫৭ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যটা পেরিয়ে যায় পাপুয়া নিউগিনি। ইউসুফের সেঞ্চুরির আনন্দে বিষাদ ঢেলে দেয়ে দলের অমন পরাজয়, ‘জানেন, লাঞ্চের সময় পাপুয়া নিউগিনির ম্যানেজমেন্ট মাঠ ছেড়ে চলে গিয়েছিল। তারা ভেবেছিল, যেভাবে শুরু করেছি আমরা অন্তত ৩৫০ রান করব। উইকেটও ছিল ভীষণ ব্যাটিংবান্ধব। সেখান থেকে ২২৪ রানে অলআউট হলাম। বোকার মতো চারটি রানআউটের বড় মূল্য দিতে হলো।’ দল হারলেও সেঞ্চুরি করে হয়েছিলেন ম্যান অব দ্য ম্যাচ। তবে তাতেও তৃপ্তি আসেনি, দলের পরাজয়টা আজও দাগ কাটে ইউসুফের হৃদয়ে। আছে একটি আফসোসও। আইসিসি ট্রফিতে বাংলাদেশের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান, কিন্তু আমিনুল-মেহরাবের প্রথম সেঞ্চুরির মতো এটি হয়তো অনেককে জানেনই না। কিন্তু একদিন কেউ একটা ভিত গড়ে দিয়েছিল বলেই, কেউ একটা ইট গেঁথেছিল বলেই তো একটা দালান হয়ে উঠতে পেরেছে বাংলাদেশের ক্রিকেট। শুধু ওই সেঞ্চুরি নয়, ইউসুফকে মনে রাখতে হবে ১৯৭৭ সালে এমসিসির বিপক্ষে ৭৮ রানের ইনিংসটির জন্যও। বাংলাদেশ জাতীয় দলের প্রথম ম্যাচ ছিল সেটি। যে সময়ে ব্যাটিংয়ে ঝড় তোলাটা ছিল রীতিবিরুদ্ধ, দেখেশুনে খেলাটা ছিল বরং প্রচলিত নিয়ম। রীতি ভেঙে ইউসুফ নিজেকে চিনিয়েছিলেন আগ্রাসী ব্যাটসম্যান হিসেবে। ক্রিকেটের পাশাপাশি তিনি বাস্কেটবলও খেলতে পারতে দারুণ। খেলোয়াড়ি জীবন শেষে লিখেছিলেন ‘সেন্টিমেন্টাল জার্নি’ নামে একটি বই। প্রবাসজীবনে তাঁর ব্যস্ততা এখন ব্যবসা নিয়ে। সেখানেও তিনি ভীষণ সফল। প্রায় প্রতিবছর একবার অন্তত আসেন দেশে।
ক্রিকেটার, বাস্কেটবল খেলোয়াড়, সফল ব্যবসায়ী, লেখক—সব ছাপিয়ে ইউসুফ বাবুর নামটি মনে রাখতে হবে ওই সেঞ্চুরিটির জন্যই। বাংলাদেশের প্রথম সেঞ্চুরি যে ছিল সেটাই!
0 comments:
Post a Comment